মৃগী রোগের ৭০% ভাল চিকিৎসা করা হয়

মৃগী রোগের ৭০% ভাল চিকিৎসা করা হয়, দেশে প্রতি হাজারে ৬ জনের বেশি মানুষ মৃগীরোগে

আক্রান্ত হয়ে বসবাস করছেন। মৃগীরোগে আক্রান্ত ৮৫ শতাংশ মানুষ সঠিক চিকিৎসা পান না। তবে সঠিক

ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ৮০ শতাংশ মানুষ এই রোগ নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন

করতে পারে। বুধবার ন্যাশনাল মেডিক্যাল গাইডলাইন ফর এপিলেপসি-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা

এ কথা বলেন।সোসাইটি অব নিউরোলজিস্টস অব বাংলাদেশের (এসএনবি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান

সানোফি এবং তাদের বৈজ্ঞানিক সহযোগী বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড রাজধানীর একটি হোটেলে

এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মৃগী রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক

কুসংস্কার রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার চিকিৎসকের কাছে না এসে তাবিজ-কবচ দিয়ে

রোগীকে সুস্থ করার চেষ্টা করে।

আরও নতুন নিউস পেতে আমাদের সাইট:allresult.xyz

মৃগী রোগের ৭০% ভাল চিকিৎসা করা হয়

বক্তারা মৃগীরোগের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে দেশে একটি ইনস্টিটিউট স্থাপনের আহ্বান জানান।প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, গর্ভাবস্থায় মা-বাবার পুষ্টির অভাবে মৃগীরোগ হতে পারে। এছাড়াও, গর্ভাবস্থায় আঘাত বা প্রসবের সময় মায়ের অক্সিজেনের অভাবের কারণে মৃগী রোগ হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মৃগীরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শুধু চিকিৎসার জন্য নয়, সারাজীবনের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্যও সহযোগিতা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার সরকার গুরুত্ব দেবে।অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএনবির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মৃগী রোগ মস্তিষ্কের কোষকে প্রভাবিত করে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ মৃগী রোগ নিয়ে বসবাস করছে। অনেকে মনে করেন, মৃগী রোগ হলে কোথাও যাওয়া যাবে না, গৃহবন্দী থাকতে হবে।

মৃগী রোগের প্রকোপ শহরাঞ্চলের

তুলনায় গ্রামাঞ্চলে কিছুটা বেশি। পুরুষদের মধ্যে সংক্রমণের হার প্রতি হাজারে ৯ জনের বেশি এবং মহিলাদের মধ্যে এটি প্রতি হাজারে প্রায় ৬। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে মৃগীরোগীদের ৮০ শতাংশ চিকিৎসা গ্রহণের পর ভালো হয়ে যায়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন নাছিমা বেগম তার ৩৬ বছর বয়সী ছেলে নাসিফের অটিজম ও মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রসবের সময় ছেলেটির অক্সিজেনের মাত্রায় সমস্যা ছিল। মৃগীরোগ মাঝে মাঝে আঘাত করে। তার ছেলে সবসময় খিঁচুনিতে ভুগতে এবং নিচে পড়ে যায়, আহত হয় এবং রক্তপাত হয়।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর বলেন, মৃগীরোগের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এটি প্রতিরোধে কী করা যায় তাও নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল বাসার

মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, মৃগী রোগ হওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি সমাজের বাইরে, যুক্তিহীন ব্যক্তি। মৃগী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ বিভাগের কার্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএনবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু নাসির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক কাজী দ্বীন মো. সানোফি বাংলাদেশ প্রাইমারি কেয়ার বিভাগের হেড অব মার্কেটিং সুমন মহসিন তাদের ধন্যবাদ জানান।গতকাল সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ সদরের গড়পাড়া এলাকার শুভ্র সেন্টারে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ এ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। সভায় সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের প্রতিটি দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ও মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *