নৌকার প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে

নৌকার প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে, মাগুরার মোহাম্মদপুর ও শালিখা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন

পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এখানে নৌকার বিপরীতে প্রার্থী

হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ২৪ বিদ্রোহী প্রার্থী। দলের মধ্যে বিভক্তির

কারণে তাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরাতে পারেননি নেতারা।দ্বিতীয় ধাপে মাগুরা সদরের ১২টি ইউপিতে

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই উপজেলার প্রতিটি ইউপিতে তুমুল লড়াইয়ের

আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নিয়ে অস্বস্তিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তৃতীয় ধাপে এই দুই

উপজেলায় ২৬ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,

মোহাম্মদপুর ও শালিখার ১৫টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের ২৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

আরও নতুন নিউস পেতে আমাদের সাইট:allresult.xyz

নৌকার প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে

এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের ৬টি ইউপিতে ১৫ বিদ্রোহী প্রার্থী এবং শালিখার ৬টি ইউপিতে ৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে শালিখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরজ আলী বিশ্বাসও রয়েছেন। আড়পাড়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আবারও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নেতাসহ ২৪ বিদ্রোহীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ।জানা গেছে, অধিকাংশ ইউপিতে নৌকা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে দ্বিমুখী ও ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একাংশ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন।এদিকে দুই উপজেলায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মোট ১২ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোহাম্মদপুর ও শালিখা উপজেলা বিএনপি নেতারা জানান, বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ায় যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা সবাই দায়ী হয়েছেন।

দলের সঙ্গে তাদের কোনো সমন্বয় নেই

তবে দলীয় সমর্থন না পেলেও কয়েকটি ইউপিতে বিএনপির প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি ইউপিতে ভোটের ফলাফল নির্ধারণে বিএনপিপন্থী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এদিকে আওয়ামী লীগের পর এবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুই উপজেলার ১৩টি ইউপিতে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী রয়েছে। সদরের একটি ইউনিয়নে জয়ী এবং দুটিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকায় তৃতীয় ধাপে কয়েকটি ইউনিয়নে ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন দলটির নেতারা। এছাড়া মোহাম্মদপুরের রাজাপুর ও পলাশবাড়িয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।গত ১১ নভেম্বর মাগুরা সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দুইজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী।

অন্য তিনটি ইউপির মধ্যে দুটিতে আওয়ামী

লীগের বিদ্রোহী এবং অন্যটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ওই তিন ইউপিতে নৌকার পরাজয়ের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভক্তিকে দায়ী করেছেন জেলা নেতারা। শালিখা ও মোহাম্মদপুরের বেশ কয়েকটি ইউপিতে একই ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ প্রতিটি ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিভক্ত। অনেক ইউপিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি সরকারি দলের এমপিদের বিরুদ্ধে গোপনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুন্ডু সোমবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, নৌকার বিপরীতে প্রতিটি ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্রে দলের এক বা একাধিক সদস্য অবস্থান করছেন। তাদের বেশিরভাগই থামানো যায়নি। সে কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুযোগ পাচ্ছেন। এ আসনের অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন। কিন্তু মোহাম্মদপুর ও শালিখায় আমাদের অনেক নেতা এই বিদ্রোহীদের দাঁড় করিয়েছেন।

About admin

Check Also

সাবেক এমপি বদি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছেড়ে যেতে বলেন

সাবেক এমপি বদি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছেড়ে যেতে বলেন

সাবেক এমপি বদি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছেড়ে যেতে বলেন, অবশেষে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়তে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *